ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়ার জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়ার জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার। এতে দেশটি থেকে পণ্যটির সরবরাহ ব্যাঘাত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ৩২ সেন্ট বা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৭ ডলার ৩১ সেন্টে। এ সময় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলার ১ সেন্টে। এটিও আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রোববার রাতে ইউক্রেন অন্তত ৩৬১টি ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কিরিশি পরিশোধনাগারে আগুন লাগে। প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ৩ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল, যা রাশিয়ার মোট উৎপাদনের প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

এর আগে ইউক্রেন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় রফতানি টার্মিনাল প্রিমোরস্কেও হামলা চালায়। প্রিমোরস্কের দৈনিক রফতানি সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল। গত সপ্তাহে এসব হামলার কারণে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা বলেন, ‘প্রিমোরস্কিতে হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।’

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, ইউক্রেন যদি কৌশলগতভাবে রাশিয়ার রফতানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে তাহলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। যদিও ওপেক প্লাস উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করায় সরবরাহ বেশি হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনাও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। রোববার মাদ্রিদে শুরু হওয়া বৈঠকে মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনায় চীনকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমদানি শুল্ক আরোপ করতে আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যসীমা ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৭ ডলার ৬০ সেন্ট করেছে জাপান। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের জন্য মস্কোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মূলত এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এটি মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ, কারণ জাপানের প্রায় সব রুশ জ্বালানি তেল আমদানিই বর্তমানে এ নিয়মের আওতার বাইরে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জুলাইয়ে রুশ অপরিশোধিত তেলের মূল্যসীমা ৪৭ ডলার ৬০ সেন্টে নামিয়ে আনে। মস্কোর বিরুদ্ধে ইইউর ১৮তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর জাপান জি৭-ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মিলে ধাপে ধাপে রুশ জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে দেশটি এখনো সাখালিন-২ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত সাখালিন ব্লেন্ড অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের উপজাত হিসেবে পাওয়া এ তেল জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯ শতাংশই সাখালিন-২-এর ওপর নির্ভরশীল।

আরও